জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: জাহেদ উর রহমান

১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু, উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ ও বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল

দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি দেশের ১০টি জেলা হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সেবা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শুধু আইসিইউ চালু নয়, প্রতিটি ইউনিটে শিশুদের জন্য বিশেষ পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

তিনি আরও জানান, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে যেতে হবে না এবং নিজ এলাকায় দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, একজন দরিদ্র বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এলে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও স্বজনদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। সরকারের লক্ষ্য এই ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ কমিয়ে আনা।

তিনি বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তাৎক্ষণিক সেবা অনেক সময় জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন পাইলট প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। সম্প্রতি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন। রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন হলে তাকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করা হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “অনেক মানুষ রোগের প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। আমরা চাই রোগকে প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।”

তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যনীতি এখন শুধু রোগের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলমান উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও জনমুখী হবে এবং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবে।