স্টাফ রিপোর্টার | ২৯ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে টেস্ট করানো এবং সরকারি দায়িত্ব অবহেলার মতো অনিয়ম আর চলতে দেওয়া হবে না। এসব কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অপচয়ের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি এক লাখের বেশি নতুন শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই টিকা না নেওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডায়ালাইসিস সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্মার্টফোন, সাইকেল ও এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ দেওয়া হবে। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, উচ্চতা, ওজনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।
মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সারাদেশে প্রাইভেট ক্লিনিকে অভিযান ও তদারকি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।





