স্টাফ রিপোর্টার, ৯ আগস্ট ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘She Leads Tomorrow’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠান। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, UN Women এবং UNOPS বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ছিল ‘Enhancing Women’s Political Leadership through SDG 5 and SDG 16 Localisation in Bangladesh’ প্রকল্পের জাতীয় প্রচার ও সমাপনী অনুষ্ঠান। Joint SDG Fund-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এক হাজারেরও বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্ব ও নিজ নিজ সমাজে পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের SDG বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. এস. এম. আবদুল-আওয়াল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জুবাইদা রহমান তরুণ অংশগ্রহণকারীদের অর্জনের প্রশংসা করে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণ নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তারা শুধু নিজেদের সম্প্রদায়কেই শক্তিশালী করে না, দেশের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের SDG বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. এস. এম. আবদুল-আওয়াল স্থানীয় পর্যায়ে SDG বাস্তবায়নে তরুণ নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল প্রলার-প্রেন্ডেরগ্যাস্ট টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীদারত্ব এবং কাউকে পিছিয়ে না রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে UNOPS বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন এবং UN Women বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং তরুণ নারীদের নেতৃত্বে বিনিয়োগ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘She Leads Tomorrow’ কফি টেবিল বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বইটিতে প্রকল্পে অংশ নেওয়া তরুণীদের সাহস, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হয়েছে। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তাদের জীবনে পরিবর্তনের অভিজ্ঞতার ভিজ্যুয়াল গল্প উপস্থাপন করা হয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১২ মাস ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। সরকারি স্কুল, মাদ্রাসা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক হাজারেরও বেশি কিশোরী ও তরুণী এতে অংশ নেয়। নেতৃত্ব বিকাশ, মেন্টরশিপ, নাগরিক শিক্ষা, নীতি সংলাপ ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তাদের নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং নাগরিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়।
প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ‘Bangladesh Model for SDG Localisation’ তৈরি করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি SDG বাস্তবায়নে স্থানীয় মালিকানা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় তরুণ নারী নেতৃত্বকে যুক্ত করার একটি সম্প্রসারণযোগ্য কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, গল্প বলার পর্ব, ভিডিও প্রদর্শনী ও Inclusion Ceremony অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নারীর কূটনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং লিঙ্গ সমতা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।





