তারেক রহমান এখনও নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: আতিকুর রহমান রুমন

প্রধানমন্ত্রীর ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার | সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখনও সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা ও আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা মনে রাখতে চান না। আমরা যদি অতীতের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে প্রতিশোধ নিতে যাই, তাহলে পাঁচ বছরেও তা শেষ হবে না।

প্রতিশোধ নয়, দেশ গড়ার রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, পাঁচ বছর ধরে যদি প্রতিশোধ নেওয়ার কাজেই ব্যস্ত থাকা হয়, তাহলে জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়িত্ব দিয়েছে, তা সফল হবে না।

তিনি বলেন, তারেক রহমান দুঃসহ স্মৃতিগুলো পেছনে ঠেলে দেশের উন্নয়নের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

রুমন আরও বলেন, বিএনপি যখন অতীতে দেশ পরিচালনা করেছে, তখন তারেক রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এ ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর ভালো কাজগুলো ব্যাহত না হয়।

তিনি বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে হাতে হাত ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো সফল করতে হবে।

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, এ দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। দেশের জনগণ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এর প্রমাণ রেখেছে। তারা স্বৈরাচার এরশাদ ও ওয়ান-ইলেভেন সরকারকে হটিয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে।

দুঃসময়ে কারামুক্তি দিবস পালনের স্মৃতিচারণ

রুমন বলেন, তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে তাঁর চোখের সামনে দুঃসময়ের নানা করুণ স্মৃতি ভেসে উঠছে। বিগত ১৯ বছর ধরে যথাসময়ে এ দিবসটি পালন করা হয়েছে। তবে আজকের পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের পরিস্থিতির ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, সে সময়ে এ দিবস পালন করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি, কারাবরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও তারা পিছিয়ে যাননি।

তিনি আরও বলেন, সে সময় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিশ্বস্ত নেতাদের জানানো হতো। অনেক সময় প্রশাসনকে না জানিয়ে গোপনে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়েছে। সাংবাদিকদেরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে জানানো হতো।

সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক সে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তাদের সহযোগিতায় কর্মসূচিগুলো প্রচার পেয়েছে এবং সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।

সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।