স্টাফ রিপোর্টার | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সুদৃঢ় সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
‘জিয়ার আদর্শে রাজনীতি জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
সংগ্রাম ও উন্নয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে এ দেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির মূল ভিত্তি ছিল এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন।
তিনি আরও বলেন, ৯০-এর দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হয়।
বিশেষ করে নারীশিক্ষার প্রসার, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপে বিএনপির অবদানের কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
‘আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে’
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১/১১-পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র যে চরম সংকটে পড়েছিল, তা পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদের রূপ নেয়।
তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা শত শত ও সহস্র প্রাণের বিনিময়ে দেশকে পুনরায় স্বৈরাচারমুক্ত করেছেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম সূচিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব
বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো সামরিক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা অপশক্তির উত্থান না হতে পারে, সে জন্য সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদানসহ সব নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিত এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক এবং মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিএনপির ইতিহাস আন্দোলন ও পরিবর্তনের ইতিহাস
বিএনপির দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতকের ইতিহাসকে আন্দোলন, গৌরব, অর্জন, সংগ্রাম, উন্নয়ন ও ধারাবাহিক পরিবর্তনের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের সূচনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীসহ সিলেট জেলা ও মহানগরের সব নেতাকর্মীকে শুভেচ্ছা জানান।
বক্তব্যের শেষে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের চর্চা করা, সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি অনুসরণ করে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে এক সংকটময় মুহূর্তে দেশপ্রেমিক স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর দেশের সার্বিক অস্তিত্ব ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিয়ে বিশ্ব দরবারে যখন প্রশ্ন ছিল, তখন স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলেন এবং চাল রপ্তানির ব্যবস্থা করেন বলে দাবি করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
কৃষি, শিল্প ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ইতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ আজও দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দেশের সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে সমাধান করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এমপি ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ও সহ-ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।





