স্টাফ রিপোর্টার | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের স্কুলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে কর্মসূচিটির পরিধি সম্প্রসারণ করে দেশের সব উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
খাবারের মান নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার
খাবারের মান ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, খাদ্যতালিকায় পুষ্টিমান বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে স্থানীয় মা-বোনদের সম্পৃক্ত করে ‘মাদারস কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে খাবার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পাইলট প্রকল্পের ফিডব্যাক পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় পুষ্টিমানের ভিত্তিতে প্রয়োজনে খাদ্যতালিকায় নতুন উপাদান যুক্ত করা হবে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়।
চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে নতুন বিষয়
চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া নতুন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল এডুকেশন’ বিষয়ে একটি প্রাথমিক পাঠ্যবই দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী ২০২৮ সালে বর্তমান শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম কার্যকর করা হবে। আপাতত সহকারী শিক্ষকদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
৩৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগের উদ্যোগ
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে অথবা বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে ছিল।
তিনি জানান, এসব পদে দ্রুততম সময়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত করতে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





