স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোনোটিতেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই যারা আগামীতে প্রার্থী হতে চান, তাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সব স্থানীয় সরকার পদেই একই নীতি
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করে মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত নেই।
তবে প্রার্থীদের বয়সসীমার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটার হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।
‘শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত দিলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে’
জাতীয় সংসদ সদস্যদের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমপি পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। এমনকি তিনি নিজে যখন এমপি পদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তখনও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।
তিনি বলেন, আইন বা সংবিধানে এমন কোনো শর্ত নেই। যেহেতু সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই, তাই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও এ ধরনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত আরোপ করলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও নেতৃত্বের যোগ্যতা থাকতে পারে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন সমাজসেবক প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেয়েও স্বশিক্ষিত হতে পারেন। কেউ স্কুলে না গিয়েও নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদ সদস্য নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।





