ভারতের সঙ্গে মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক প্রয়োজন: স্পিকার

জাতীয় ঐকমত্য ও সমঝোতার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বজায় থাকা প্রয়োজন।

আজ সোমবার ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্পিকার।

তিনি বলেন, ভারত পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখান থেকে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। তবে তাদের আচরণে সেই আন্তরিকতা প্রকাশ পাচ্ছে না; কেবল কূটনৈতিক কথাবার্তাই চলছে।

স্পিকার বলেন, ‘আমরা আশা করব, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।’

তিনি ভারতসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় ঐকমত্যে টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশা

স্পিকার বলেন, একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিদায় হয়েছে। প্রায় দুই বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বিএনপিকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছে।

নতুন সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, হত্যা, গুম, অর্থপাচার ও রেকর্ড দুর্নীতির কারণে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। এই ভগ্নদশা থেকে দেশকে টেনে তুলতে সময়ের প্রয়োজন। তবে মাত্র সাত মাসেই নতুন সরকার উন্নয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে।

আগামী দিনের টেকসই উন্নয়নের রোডম্যাপ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল জাতীয় ঐকমত্য ও সমঝোতায় আসতে পারলে ১৭ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সফল হবে।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব

জুলাই বিপ্লবের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলমান সংবিধান সংশোধনের কাজ শেষ হলেই এর কাঙ্ক্ষিত সুফল দৃশ্যমান হবে।

বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে: স্পিকার

দেশে বর্তমানে জনগণের বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সত্য কথা বলার অপরাধে অনেককে ক্রসফায়ারে জীবন দিতে হয়েছে এবং বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।

মতবিনিময় সভায় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোলায় তিন দিনের সফর শেষে আজ সোমবার সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।