পারমাণবিক বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আইএইএ’র ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম পরমাণু বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএ’র ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বক্তব্যের শুরুতে তিনি অধিবেশনের সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতায় বিভিন্ন খাতে সুফল

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ’র টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুফল পেয়ে আসছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ২০২৬-২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

পারমাণবিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি

পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

জনগণের কল্যাণে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে হবে।

বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে আইএইএ’র ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গবেষণা ও উদ্ভাবনে তরুণদের সুযোগ

মন্ত্রী বলেন, তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।

পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে টেকসই উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।