✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮
✮

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতায় আওয়ামী লীগের অর্থায়নের সংযোগ থাকতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই আগাম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার: জাহেদ উর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ নভেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগের সংযোগ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পোশাক খাতের চলমান আন্দোলন ও নাশকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে এখন শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা দাবির যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। তবে এর মধ্যেও যারা সহিংস আচরণ করছে, তাদের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বা নিষিদ্ধ দলটির কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ লুটপাটের অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের কোনো সংযোগ থাকতে পারে। সরকার ও প্রশাসন এ ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করা হচ্ছে—সরকার এমনটি মনে করে না বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার কোনো বাধা দেবে না।

পুলিশের বলপ্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত আমলের মতো নির্বিচারে বা মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে বের করে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের বলপ্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে। তবে তা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরিচালিত হতে হবে।

জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের (এলপিজি বা এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং এলএনজি আমদানির ব্যয় অনেক বেড়েছে। সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রেকর্ড পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। তবে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই অর্থনৈতিক চাপ কারও না কারও ওপর পড়ছে। ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।