স্টাফ রিপোর্টার | ৫ নভেম্বর ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এসব উদ্যোগ ভেস্তে দিতে চায়।
তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই সুযোগ না পায়। কারণ, এখন সময় দেশ গঠনের এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, যারা বিগত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি দেশের মিল-কারখানাগুলো ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
শিল্পকারখানার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মিল-কারখানা দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের সম্পদ। এগুলো ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। ইনশাল্লাহ আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে সরকার দিনরাত কাজ করছে, যাতে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিল সরকার।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পকারখানা স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
খুলনা অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।





