প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বেগম জিয়ার দেখানো পথেই হাঁটবো: তানভীর আহমেদ রবিন

শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গড়তেই বিএনপির রাজনীতি—দোয়া মাহফিলে বক্তব্য

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা–৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না; বরং -এর দেখানো পথেই রাজনীতি করবেন। মানুষের উপকার করতে না পারলে অন্তত ক্ষতি করবেন না—শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গড়াই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আলমবাগে শ্যামপুর থানার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।

রবিন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন; তিনি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। সীমাহীন নির্যাতন, কারাবাস ও ব্যক্তিগত ত্যাগের পরও তিনি কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি—এ কারণেই আজও তিনি সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এবং ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে—দুইবার বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। শৈশব-কৈশোরের অনেক স্মৃতি হারালেও দেশনেত্রীর স্নেহ, ভালোবাসা ও পরামর্শ আজও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

শ্যামপুর–ডেমরা–যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বহুবার শ্যামপুরে তাঁদের বাড়িতে এসেছেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি -এর আহ্বানে সালাউদ্দিন আহমেদ বিএনপির নেতৃত্বে আসেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই এই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হলে সালাউদ্দিন আহমেদও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে রবিন বলেন, একসময় শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল ছিল অবহেলিত জনপদ। বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়াও সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়। ২০০৬ সালের শেষ দিকে ডেমরা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মাতুয়াইলে মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবন্দি রাখা, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। গুলশান কার্যালয়ে বন্দি অবস্থায় তাঁর পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন সরকারের অমানবিক আচরণ সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি।

রবিন আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কখনো -র বিরুদ্ধে কটুক্তি করেননি; বরং সর্বশেষ বার্তায় দেশ পুনর্গঠনের জন্য ঐক্য, সহনশীলতা ও শান্তির রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন।

নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মহিলা বিষয়ক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও যুব বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি, উপবৃত্তি প্রদানসহ নানা উদ্যোগে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রবিন বলেন, এলাকাটি আজ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত—খেলার মাঠ, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টারের অভাব রয়েছে। জলাবদ্ধতা, বেকারত্ব, মাদক ও কিশোর গ্যাং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিএনপির বিকল্প নেই।

তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, বিএনপির কেউ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাংকে আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে—যেখানে মুরুব্বি, আলেম, নারী, তরুণ ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাই যুক্ত থাকবে।

দোয়া মাহফিলে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামান আহমেদ পিন্টুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য তোফায়েল আহমেদ, বিএনপি শ্যামপুর থানার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঢালি, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সেলিম, শ্যামপুর থানা মহিলা দলের সভানেত্রী নাসরিন সুলতানা, কদমতলী থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল গাজী, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মো. মোজাম্মেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।