স্টাফ রিপোর্টার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা, কর্মসংস্থানমুখী কারিকুলাম, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ।
বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “একটি জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে তার শিক্ষা ব্যবস্থা। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ও যুবসমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করব।”
শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত হ্যান্ডস-অন ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং একাধিক ভাষা শেখাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আর অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি করতে চাই না। আমরা চাই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও দক্ষ পেশাজীবীরা বিদেশে কর্মসংস্থানে যাক।”
বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ফ্যামিলি কার্ড
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন জানান, প্রতিটি মহানগর ও জেলা শহরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে মাসিক চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহায়তা দেওয়া হবে। এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি বাস্তব পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস সংকট ও নগর অবকাঠামো
ঢাকা শহরের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭০ বছর পুরোনো গ্যাস পাইপলাইন আধুনিকায়ন না করায় এই সংকট তীব্র হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে এখন সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভবিষ্যতে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ বা প্লেগ্রাউন্ড তৈরি করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।
ঢাকার যানজট, বায়ুদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক নকশার মাধ্যমে যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে। ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকা থেকে বের করে আনতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বুড়িগঙ্গা নদী ও ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে পৃথক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান।
ধর্মীয় সম্মান ও আইনশৃঙ্খলা
ইশরাক হোসেন বলেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারিভাবে সম্মানী দেওয়া হবে এবং অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের জন্যও সমান ব্যবস্থা চালু করা হবে। আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।”
নারীর অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি
প্রতিটি কেন্দ্র পরিচালনা কমিটিতে ন্যূনতম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নারী রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ ভোটার নারী হলেও নেতৃত্বে তাদের অংশগ্রহণ কম—এটি বদলাতে হবে।
তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন -র জন্য দোয়া কামনা করেন এবং আগামীকাল কবি নজরুল কলেজ মাঠে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল হোসেন টিপু, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির আহ্বায়ক আ. কাদির, যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ অপু ঢালী, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।





