বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ ও উপহার আমাদের সম্মান রাখতে হবে: আমির খসরু চৌধুরী

বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজায় প্রমাণ—বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
১০ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে যে আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন, তা সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক শীর্ষ নেতা আমির খসরু চৌধুরী। তিনি বলেন, “এই ভদ্র মহিলা বাংলাদেশকে যা দিয়ে গেছেন, সেই উপহারের সম্মান আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে।”

চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ মানুষ। বিশ্বের ইতিহাসে এত বড় জানাজা আগে কখনো হয়নি। আয়াতুল্লাহ খোমেনিসহ বিভিন্ন বড় জানাজার তুলনায়ও বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বৃহত্তর ছিল। এটি প্রমাণ করে, তিনি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ও স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীদের হৃদয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপন মানুষ। একজন গৃহবধূ হয়েও তিনি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন, নারীদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং কোনো আপস না করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। যা অনেক পুরুষ নেতাও করতে পারেননি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আগের মতো চালাবাজি ও দখলবাজির কোনো জায়গা থাকবে না। যারা দখলবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করবে, তারা বিএনপির রাজনীতি করতে পারবে না—এটা পরিষ্কার কথা।

আইন মানার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদাহরণ তুলে ধরে চৌধুরী বলেন, তারেক রহমান নিজে আইন মেনে চলার শিক্ষা দেন। তিনি বাসে থাকলেও লাল বাতি জ্বললে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। কারণ নেতা যদি আইন না মানে, তাহলে দেশে কেউ আইন মানবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে বাদশাহীর জায়গা নেই। ক্ষমতা হবে জনগণের, সরকারের ক্ষমতা কমবে, আর জনগণের ক্ষমতা বাড়বে। ক্ষমতা দেখানোর রাজনীতির দিন শেষ।

বেগম খালেদা জিয়ার সামাজিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে চৌধুরী বলেন, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো গরিব পরিবারের সন্তান, বিশেষ করে মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক অবদান।

আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমান আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চান। প্রতিটি পরিবারের গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়া কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ড, সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে উচ্চ আয়ের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রে নয়, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রেও বিশ্বাসী হবে। দেশের উন্নয়নের সুফল প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে হবে। এই লক্ষ্যেই বিএনপি কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষাংশে চৌধুরী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা বহুদূর এগিয়ে নিয়েছেন, আর তারেক রহমান ইনশাআল্লাহ এই যাত্রাকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন।