স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
যুক্তরাষ্ট্রের শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান -এ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী -এর অবদানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন ওয়াশিংটনে অবস্থানরত কূটনীতিক, সাংবাদিক ও নীতি নির্ধারকরা। তাঁর প্রয়াণে শোক ও সম্মান জানাতে আয়োজিত এই স্মরণসভায় বক্তারা বেগম জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
সোমবার সন্ধ্যায় ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সদস্য ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত -এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ১১৯তম প্রেসিডেন্ট , এপি’র সাবেক সম্পাদক , বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও , স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো , ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান , বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, “আমরা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করছি না; বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রটেক্টর এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির নির্মাতা। যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ, তখন তিনি নির্ভীক চিত্তে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন—বিশ্বে নজির সৃষ্টিকারী এক অনন্য নেতা।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র সরানোর উদ্যোগে তিনি বাধা দেন এবং স্বামী -এর অনুমতি ছাড়া অস্ত্র সরানো যাবে না—এই দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অন্যকে সম্মান দিয়ে নিজেও সম্মানিত হতেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি অন্যদের খোঁজখবর নিতেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “আমার দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিরোধীদলে ছিলেন, তবুও যখনই চেয়েছি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। তিনি যোগাযোগের দরজা সবার জন্য খোলা রেখেছিলেন।”

সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, “বহু নির্যাতন সহ্য করেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো অভিযোগ করেননি। সকালের নাস্তা কিংবা রমজানের ইফতার—সব আয়োজনে তাঁর অতিথিপরায়ণতা ও হৃদ্যতা সবাইকে মুগ্ধ করত। একজন নারী হিসেবে তিনি যেভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা এশিয়া উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক চ্যাম্পিয়নের স্মরণসভা আয়োজন করতে পেরে তারা গর্বিত। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃত।

সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি রাজনীতির হাল ধরতে বাধ্য হন। সমর্থকদের চাপে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেন।
আলোচনার আগে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
ওয়াশিংটনের এই স্মরণসভা ছিল গণতন্ত্রের এই মহান নেত্রীর প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—যা প্রমাণ করে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নাম বিশ্বমঞ্চে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও শ্রদ্ধেয়।
তথ্য ছবি মুশফিকুল ফজল আনসারী





