১১ দলের জোট অটুট, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে শিগগিরই: নেতারা

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ চলমান, ২২ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে

স্টাফ রিপোর্টার | জানুয়ারি ২০২৬| নিউজ চ্যানেল বিডি

১১ দলের রাজনৈতিক জোট নিয়ে কোনো ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। তারা স্পষ্ট করে বলেন, জোট এখনো সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং আসন সমঝোতা সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

নেতারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই জোটের আলোচনা ও প্রক্রিয়া চলমান। শুরুতে পাঁচ দল নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে তা আট দলে উন্নীত হয় এবং বর্তমানে ১১টি দল এই জোটে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে এই দলগুলো একসঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে এবং পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিল।

আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে তারা বলেন, এটি একটি বাস্তবিক ও জটিল বিষয়। আট দলের মধ্যে যখন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ঠিক তখনই নতুন করে আরও তিনটি দল যুক্ত হওয়ায় আলোচনায় কিছুটা সময় বেশি লাগছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় আছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

জোট নেতারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের ১১ দলের মধ্যে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে এবং আমরা তা বজায় রাখবো। আসন সমঝোতা যথাসময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে ইনশাআল্লাহ।”

তারা আরও জানান, সব দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ উদারতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জোটের আমির বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে, যেখানে সব ধর্মের মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। আলাদা কোনো আইন বা মডেল প্রয়োগের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত তুলে ধরে নেতারা জানান, যেসব আসনে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থিতা বাতিল বা স্থগিত করেছিলেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমানে আপিল শুনানি চলছে। কিছু মামলা নির্বাচন কমিশনে এবং কিছু হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এখনও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ বাকি আছে।

তফসিল অনুযায়ী, ২০ তারিখ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, ২১ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ এবং ২২ তারিখ থেকে আরপিও অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।

নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক–দুই দিনের মধ্যেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে এবং বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।