স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
অতীতের মতো আর কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং, ভোট ডাকাতি কিংবা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের ভোট কারচুপি ও ম্যানুভারিংয়ের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান হবে স্পষ্ট ও আপসহীন।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও একটি ভোটও দিতে পারেনি। এই বাস্তবতা আর চলতে দেওয়া যায় না। যুবসমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তোমাদের ভোট দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং ভোটের হিসাব নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা তোমাদের পাশে থাকব।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের এই ঐক্য গঠনের পেছনে বহু মানুষের বিশাল অবদান রয়েছে। তিনি সকলের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষভাবে স্মরণ করেন জাতির বিভিন্ন টার্নিং পয়েন্ট—৪৭, ৭১ ও ২৪–এ যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন এবং যারা দফায় দফায় লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা সকলের কাছে ঋণী। এই ঋণ আমরা পরিশোধ করতে চাই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে—যে বাংলাদেশ হবে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত।” তিনি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই মুহূর্তে বিশেষভাবে মনে পড়ছে বিপ্লবী সহযোগী শরীফ উসমান বিন হাদির-এর কথা। তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জনগণের জীবন্ত কণ্ঠ, নিজেই ছিলেন একটি বিপ্লব এবং একটি বিপ্লবের আইকন।”
হাদির হত্যার বিচার দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ জানে কারা তাকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি জাতি দেখতে পায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে এগিয়ে আসবে, দায়িত্ব নেবে এবং ঝুঁকি নেবে। তবে যদি এই বিচার ধামাচাপা দেওয়া হয়, তাহলে দেশে আর কোনো বিপ্লবীর জন্ম হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা কষ্ট করে এখানে এসেছেন। আমাদের এই বার্তাগুলো জাতির কাছে পৌঁছে দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”





