ঢাকা–১৪: ধানের শীষ কি নিজেদের ভুলেই বিপদে?

প্রতীক আছে, আবেগ আছে, কিন্তু মাঠ কি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে? স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি। ঢাকা: সারাদেশে…


প্রতীক আছে, আবেগ আছে, কিন্তু মাঠ কি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে?

স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা: সারাদেশে যখন বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী হাওয়া, তখন রাজধানীর ঢাকা–১৪ আসন যেন ভিন্ন গল্প বলছে। যেখানে জয়ের কথা, সেখানেই বাড়ছে অস্বস্তি। প্রশ্ন একটাই—এই আসনে কি বিএনপি নিজেরাই নিজেদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে?

ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ‘মায়ের ডাক’-এর অন্যতম সংগঠক তুলি। গুম হওয়া যুবদল নেতা সাজিদুর রহমান সুমনের বোন হিসেবে নয়, বরং গুম পরিবারের পক্ষে দীর্ঘদিনের নির্ভীক কণ্ঠ হিসেবে তিনি পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেই ভূমিকার কারণে চাপ, হয়রানি এবং নজরদারিও ছিল নিত্যসঙ্গী।

এই ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই ধানের শীষ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মনোনয়ন আর মাঠ—দুটো যে এক জিনিস নয়, ঢাকা–১৪-তে এসে সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে।

স্বতন্ত্র সাজু, ভেতরের ভাঙন

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি এস এ খালেকের ছেলে সাজু। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেও বাস্তবতা হলো—তিনি এখনো শক্ত অবস্থানে আছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাকে ভালোভাবে চেনে, মাঠে তার নেটওয়ার্কও পুরোনো।

এখানেই শুরু হচ্ছে মূল সমস্যা। তুলি স্থানীয় প্রার্থী নন। ফলে অঙ্গসংগঠন ও তৃণমূলের একটি অংশ পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। অভিযোগ আছে, কেউ নীরব, কেউ আবার ভিন্ন পথে হাঁটছেন। প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে ভোট ভাগের আশঙ্কা স্পষ্ট।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই বিভক্তিই ধানের শীষের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

জামায়াত ফ্যাক্টর: হিসাব বদলে দেওয়ার ক্ষমতা

সমীকরণ আরও জটিল করেছে জামায়াত। তারা নীরব থাকলেও নিষ্ক্রিয় নয়। নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের নিজস্ব হিসাব আছে। স্থানীয় পর্যায়ে তারা ধরে নিচ্ছে—বিএনপির ভোট ভাগ হলে সেই ফাঁক গলে তারাই লাভবান হতে পারে।

ভোটারদের মধ্যেও দ্বিধা স্পষ্ট। কেউ আবেগে ধানের শীষ, কেউ বাস্তবতায় সাজুর দিকে ঝুঁকছেন। তবে মাঠের আলোচনায় একটি নামই বেশি শোনা যাচ্ছে।

শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তই কি সব বদলাবে?

একাধিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি। যদি হাইকমান্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি ঢাকা–১৪ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন বা সমন্বয়মূলক উদ্যোগ নেন, তাহলে দৃশ্যপট বদলাতে পারে।

না হলে, সারাদেশে বিজয়ের ঢেউয়ের মাঝেই ঢাকা–১৪ হয়ে উঠতে পারে বিএনপির সবচেয়ে বড় সতর্ক সংকেত। এখানে হার মানে শুধু একটি আসন নয়—নিজেদের সিদ্ধান্তেরই খেসারত।

ঢাকা–১৪ আসনের ভোটার পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–১৪ (মিরপুর–শাহআলী–দারুস সালাম) আসনে ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

  • মোট ভোটার: ৪,৫৬,০৪৪ জন
  • পুরুষ ভোটার: ২,৩২,০৬৬ জন
  • নারী ভোটার: ২,২৩,৯৭৪ জন
  • তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার: ৪ জন

২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪,১৮,২১২ জন। সে হিসাবে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৩৭,৮৩২ জন। এই নতুন ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য লিখবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।