স্টাফ রিপোর্ট | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের প্রমাণ নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই—৩১ তারিখ সকাল থেকে সমাধিস্থ করার আগ পর্যন্ত জনগণের যে ঢল নেমেছিল, সেটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আর বেশি বলার প্রয়োজন নেই। আমরা শুধু আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি—তিনি যেন তাকে উত্তম নসিব দান করেন।”
জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের বাইরে থেকেও সব ধরনের নির্যাতন, অবিচার, ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা ও হামলা উপেক্ষা করে যিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে গেছেন, সেই নেতা তারেক রহমান ২৫ তারিখে যে রাজকীয় সম্মান পেয়েছেন, তা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেই আরেকটি শক্ত প্রমাণ।
তিনি বলেন, “১৬ বছর পর নির্বাচন থেকে আসা কোনো নেতাকে জনগণ যে রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল।”
খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত রাজনৈতিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য আল্লাহ পাক যেন তারেক রহমানকে সেই সৌভাগ্য দান করেন—এমন কামনা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন ও গ্রহণ করায় তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, “আজ থেকে তারেক রহমানের এই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আল্লাহ পাক যেন তাকে এই দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করেন।”
তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, “খালেদা জিয়ার শেষ যেখানে হয়েছে, তার ইন্তেকালের পর সেখান থেকেই আমি যেন শুরু করে শেষ করতে পারি।” এই বার্তাটি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন ও সহিংসতা প্রসঙ্গে
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে হত্যার অভিযোগ এবং এর আগে ওসমান হাদী হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, এটি নির্বাচন বানচালের একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী ও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসি।”
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অনেকে বলেছিল জিয়া চলে গেলে বিএনপি থাকবে না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন বিএনপি শুধু টিকেই থাকেনি, ক্ষমতায়ও গেছে এবং বিরোধী দল হিসেবেও শক্ত অবস্থান নিয়েছে।”
বর্তমান নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু হীন শক্তি নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে দলের মহাসচিবের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো আশানুরূপ নয়। সরকারকে তা স্বাভাবিক করতে হবে। যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “দুই-একজনকে হত্যা করে নির্বাচন বানচাল করা যাবে—এটা জনগণ বিশ্বাস করে না। আমিও জনগণের একজন হিসেবে তা বিশ্বাস করি না। ইনশাআল্লাহ দেশে নির্বাচন হবে, যত ষড়যন্ত্রই হোক।”





