আসন ছাড় পেলেও স্বস্তিতে নেই বিএনপির জোটসঙ্গীরা

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোট ভাগের শঙ্কা, বিদ্রোহ থামবে ২০ জানুয়ারির আগে—আশা বিএনপির

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ৪ জানুয়ারি ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি

Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-র শরিক দলগুলো। কারণ, সমঝোতার পরও বিএনপির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জোটের কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন, এই বিদ্রোহের পেছনে বিএনপির ভেতর থেকেই ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য Amir Khasru Mahmud Chowdhury বলেছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই এই সংকট কেটে যাবে।


৩০ নয়, ১৭ আসনে সমঝোতা

শুরুতে জোটসঙ্গীদের জন্য প্রায় ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও জনভিত্তির বিবেচনায় মাত্র ১৭টি আসনে ছাড় দেয় বিএনপি। Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন দলটি যাদের সমর্থন দিয়েছে, তাদের বেশিরভাগই যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

সেখানেই সৃষ্টি হয়েছে মূল জটিলতা। জোট প্রার্থীদের অভিযোগ, অনেক জায়গায় সমর্থনের বদলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।


‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’-এর অভিযোগ

জোটসঙ্গীদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও বিএনপি একদিকে সমঝোতার প্রার্থী ঘোষণা করলেও অন্যদিকে নিজেদের দলের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে বিরোধিতা করছে।

এক জোট নেতা বলেন,

“সমঝোতার কথা বলে আবার নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করানো হচ্ছে। জেলা সংগঠন থেকে শুরু করে আইনজীবী পর্যন্ত নামানো হয়েছে—এটা স্পষ্টতই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।”


বহিষ্কার করেও থামানো যায়নি বিদ্রোহ

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় রুমিন ফারহানা, সাইফুল আলম নীরব, হাসান মামুনসহ একাধিক নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবুও তারা নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়াননি।


বিএনপির আশ্বাস: সংকট কেটে যাবে

জোটসঙ্গীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

“যেখানে জোটের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সেখানে দলের কেউ দাঁড়ালে তাকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। ২০ জানুয়ারির পর ধীরে ধীরে দলের পক্ষ থেকে সমর্থন আরও স্পষ্ট হবে।”


২০ জানুয়ারির দিকে তাকিয়ে জোট

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। জোটসঙ্গীদের আশা, এর মধ্যেই বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেবে এবং প্রয়োজনে আরও কিছু আসনে ছাড় দেবে।

জোট নেতাদের মতে, শক্ত জোট ছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা বিএনপির একার পক্ষে সম্ভব