এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণে এবার খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খ রিভিউয়ের সুযোগ

আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য নম্বর নিশ্চিত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ আগস্ট ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীদের খাতা কমিটির সম্মুখে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হলে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকলে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘অতীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। কিন্তু এবার আমরা আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি।’

কোনো শিক্ষক মূল্যায়নের সময় যথাযথ নম্বর না দিলে বা অসাবধানতাবশত কোনো ত্রুটি হলে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সামনে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের পর এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খুব শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছিল। পরে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয় এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছিল।

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিশেষ করে উপকূলীয় ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে ফলাফলে এ ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়।

তবে শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বাড়ানোর মাধ্যমে এ বৈষম্য দূর করতে সরকার স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশেষ তদারকি জোরদার করছে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।