কোটির বেশি মানুষের জানাজা কোনো সাজানো ঘটনা নয়, এটি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির হৃদয়ের টান

গণতন্ত্রের পাশাপাশি ’ প্রতিষ্ঠাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন: আমির খসরু চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

কোটিরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কোনো আকস্মিক বা কৃত্রিম ঘটনা নয়—এটি ছিল মানুষের হৃদয়ের গভীর টান থেকে আসা স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতির স্বার্থে আপসহীন সংগ্রামের ফলে মানুষের মনে যে ভালোবাসা, স্নেহ ও সম্মান তৈরি হয়েছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে এই জানাজায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে এত বড় জানাজা খুব কমই দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ শান্তভাবে অপেক্ষা করেছে, কেউ বিরক্ত হয়নি, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলাও ঘটেনি। লাখো মানুষের মুখে ছিল কেবল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

আমির খসরু বলেন, এই ভালোবাসা একদিনে তৈরি হয়নি। এটি বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পুঞ্জীভূত অবদান ও আত্মত্যাগের ফল। তিনি যে আদর্শ ও রাজনৈতিক উপহার জাতির জন্য রেখে গেছেন, তা ধরে রাখতে হলে আমাদের সেই পথেই অগ্রসর হতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, নারী ও শিশু—সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কথা মাথায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

গ্রামেগঞ্জের কামার-কুমার থেকে শুরু করে কুটির শিল্প পর্যন্ত—সব খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্য উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগের ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফল অবশ্যই প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে হবে।

আমির খসরু আরও বলেন, বিএনপি শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, ‘অর্থনীতির গণতন্ত্র’-এর কথাও বলে। তারেক রহমানের দেওয়া রূপরেখায় প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার ও উপকারভোগী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি একে Democratization of the Economy হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই বিশাল রূপরেখা কোনো একক ব্যক্তি বা একক সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, পার্টনারশিপ ও জাতীয় ঐক্য। রাজনৈতিক দল, সরকার ও জনগণ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কার স্বেচ্ছাশ্রমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমনভাবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাল খননে অংশ নিয়েছিল, ঠিক তেমনভাবেই আজ আমাদের সবাইকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সৈনিক হয়ে উঠতে হবে।

সবশেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং তারেক রহমানের উন্নয়ন রূপরেখা—এই তিনকে একসূত্রে ধারণ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইনশাল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।