খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও আপোষহীনতাই আমাদের আদর্শ:

ইশরাকতাতি বাজারে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপি নেতার বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন -এর সবচেয়ে বড় মহৎ গুণ তাঁর দেশপ্রেম ও আপোষহীন নেতৃত্ব। এই আদর্শই রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁদের অনুসরণযোগ্য পথনির্দেশনা।

শনিবার রাজধানীর তাতি বাজারে জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় কোতোয়ালি থানা -এর আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসনের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, “দেশপ্রেমের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া আজকের খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে তিনি কখনো আপোষ করেননি বলেই তাঁকে আপোষহীন নেত্রী বলা হয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ কার্যত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশকে ভারতের প্রভাবাধীন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে এবং নামে বাংলাদেশ থাকলেও কার্যকরভাবে দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকেই জিয়া পরিবারের আপোষহীন রাজনীতির সূচনা হয়েছে, যা এখনও চলমান। তাঁর দাবি, ওয়ান–ইলেভেনের মাধ্যমে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো ছিল দীর্ঘমেয়াদি চক্রান্তের অংশ। এরপর বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস, নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা এবং পরিকল্পিতভাবে দেশকে একটি দাস রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হয়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আপোষ না করায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপোষহীন অবস্থানের কারণেই অসুস্থ শরীর নিয়েও বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হয়েছে, যা নিয়ে নেতাকর্মীরা তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাতেই আজ পরিস্থিতি বদলেছে। যিনি শক্ত হাতে দেশ শাসনের দাবি করেছিলেন, তাকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।”

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জায়গা থাকলে আরও কোটি মানুষ উপস্থিত হতেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জানাজার দিন সার্কভুক্ত সাতটি দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ করা হবে না।
তিনি বলেন, “প্রয়োজনে জীবন দিতে হলেও দেশের স্বার্থে আমরা প্রস্তুত। আমার দেশ, আমার মাটি, আমার জনগণ, আমার পতাকা ও মানচিত্র নিয়ে কোনো আপোষ হবে না।”

শেষে তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন—আল্লাহতায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন। একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য দোয়া চান, যেন তারা জনগণের কল্যাণে নেক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সফল হতে পারেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, কোতোয়ালি থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ হোসন সোবহান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল হাওলাদারসহ ৩২, ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।