চাঁদাবাজি পরিকল্পিতভাবে বিএনপির ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে: মির্জা আব্বাস

চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নির্বাচন নিয়ে কারচুপির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

স্টাফ রিপোর্টার | ২২জানুয়ারি ২০২৬ নিউজ চ্যানেল বিডি

চাঁদাবাজিকে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বিএনপির সময়ের কোনো সংস্কৃতি ছিল না। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, বিশেষ করে পরবর্তী পাঁচ বছরে এটি ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, চাঁদাবাজির বদনাম বিএনপির ওপর চাপানোর জন্য সরকারের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। অথচ বর্তমান সরকার এখনো পর্যন্ত একজন বড় চাঁদাবাজকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার যদি সত্যিই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চায়, তাহলে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি দাবি করেন, অতীতে তিনি দায়িত্বে থাকার সময় চাঁদাবাজি দমনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হটলাইন চালু করা হয়েছিল, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য মাইক্রোবাস প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এবং সেগুলো কার্যকরভাবেই পরিচালিত হয়েছিল।

নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি জনগণের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় কোনো দলকে একটি আসনও দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য সাধারণ কোনো কথা নয়। এর পেছনে গভীর কোনো পরিকল্পনা বা ইঞ্জিনিয়ারিং থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনো আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগীরা রয়ে গেছে এবং তারা একটি বিশেষ দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কারচুপির চেষ্টা করতে পারে। ২০০৮ সালের মতো কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ভোট কেউ ব্যর্থ করতে পারবে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেই। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও সমাজকে ধ্বংস করছে মাদক ও চাঁদাবাজি। এই দুই সমস্যাকে অবশ্যই উৎখাত করতে হবে। চাঁদাবাজির দায় বিএনপির নয় বলেও তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন।