HBRI-DESH বাস্তবায়নে অংশীজনদের পরামর্শ সভা, জলবায়ু সহনশীল ভবন নির্মাণে জোর
স্টাফ রিপোর্টার
২০ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশে জাতীয় টেকসই ভবন মূল্যায়ন ও লেবেলিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে HBRI-DESH (Design for Environment and Sustainable Habitats) বাস্তবায়ন নিয়ে রাজধানী ঢাকায় এক অংশীজন পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী সংগঠন এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (HBRI) কর্মশালাটির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে UN-Habitat, UNEP ও UNOPS। জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের (BMZ) অর্থায়নে পরিচালিত “Transforming the Built Environment through Sustainable Materials in Bangladesh” প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় HBRI-DESH এবং এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম DESHboard বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই দুটি প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের নিজস্ব টেকসই, সাশ্রয়ী এবং জলবায়ু সহনশীল ভবনের জাতীয় মূল্যায়ন ও লেবেলিং ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ ফেরদৌসী বেগম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং HBRI-এর মহাপরিচালক ড. গিয়াসউদ্দিন হায়দার।
এছাড়া “বাংলাদেশে টেকসই ভবনের উন্নয়ন: HBRI-DESH বাস্তবায়নে নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও অর্থায়ন” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় HBRI-DESH বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অর্থায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, UNEP/GlobalABC Global Status Report 2025-2026 অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের প্রায় ৩৭ শতাংশ ভবন ও নির্মাণ খাত থেকে আসে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক কাঁচামাল উত্তোলনের প্রায় অর্ধেকই এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
দ্রুত নগরায়ণের ফলে বাংলাদেশের শহুরে জনসংখ্যা গত দুই দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (IFC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে আবাসনের চাহিদা ১ কোটি ৫ লাখ ইউনিটে পৌঁছাবে।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), রিয়েল এস্টেট খাত, নির্মাণ শিল্প, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ ফেরদৌসী বেগম বলেন, “HBRI-DESH কেবল একটি প্রযুক্তিগত কাঠামো নয়। এটি একটি জাতীয় উদ্যোগ, যা টেকসই নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে। সরকার, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা দেশজুড়ে টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু সহনশীল ভবন নির্মাণে উৎসাহ দেবে।”
কর্মশালা থেকে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একাধিক সুপারিশ উঠে আসে। এসব সুপারিশ HBRI-DESH-এর বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এর অংশ হিসেবে পাইলট প্রকল্প এবং বিভিন্ন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উদ্যোগটি বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) বাস্তবায়নের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১১, ১২ ও ১৩ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি একটি নিম্ন-কার্বন, সম্পদ-সাশ্রয়ী এবং জলবায়ু সহনশীল নির্মিত পরিবেশ গড়ে তোলার পথে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





