স্টাফ রিপোর্টার | ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা দফাভিত্তিক বৈঠকের উদ্দেশ্যে যাননি। মূলত শোক ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই তাদের উপস্থিতি ছিল। তবে একপর্যায়ে তারেক রহমান দেশের বিরাজমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আড়াই ঘণ্টার বৈঠক, মনোযোগ দিয়ে নোট নেন
প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় তারেক রহমান ধৈর্যসহকারে ব্যবসায়ীদের কথা শোনেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট নেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এসব বিষয় সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা হবে।
জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামো সংকট
ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকট, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিল্প-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা—দুটোই ব্যাহত হয়।
প্রাইভেট সেক্টরকে ঘিরেই অর্থনীতি গড়ার আহ্বান
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নীতিতে প্রাইভেট সেক্টর বিকাশের সুযোগ পেয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
বিরোক্রেসি ও নীতিগত জটিলতা কমানোর দাবি
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, অতিরিক্ত بيرোক্রেসি এবং নীতিগত জটিলতা কমানোর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। ডিরেগুলেশন ছাড়া বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয় বলে তারা মত দেন।
কর্মসংস্থান ও শিল্প পুনরুজ্জীবনের তাগিদ
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, অনেক শিল্প স্থবির হয়ে পড়ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। শিল্পকে টিকিয়ে রাখা ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
ব্যবসায়ীদের সম্মান ও আস্থার গুরুত্ব
ব্যবসায়ীরা বলেন, অর্থনীতি গড়তে ব্যবসায়ীদের সম্মান ও আস্থা অপরিহার্য। ব্যবসায়ীদের সাফল্যই সরকারের সাফল্য—এই উপলব্ধি থেকে নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন।
স্বচ্ছতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের আশ্বাস
তারেক রহমান জানান, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে নীতি প্রণয়ন করা হবে। ব্যবসার খরচ কমানো, পুঁজিবাজারকে আরও সক্রিয় করা এবং ব্যাংকনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও ‘মব কালচার’ বন্ধের দাবি
আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ‘মব কালচার’ বন্ধের বিষয়টি। ব্যবসায়ীরা বলেন, এটি বন্ধ না হলে ব্যবসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন—দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়বে।





