তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে হামের প্রকোপ কমবে বলে আশাবাদ চিকিৎসকদের

টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের পাশাপাশি দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

স্টাফ রিপোর্টার | ১৫ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

সারাদেশে শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

শুক্রবার রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টার–এ বক্ষব্যাধি বিষয়ক চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চিকিৎসকরা বলেন, দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তারা বলেন, হামের অন্যতম প্রধান জটিলতা হচ্ছে নিউমোনিয়া এবং এটিই মৃত্যুর বড় কারণ।

তাদের মতে, ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াজনিত দুই ধরনের নিউমোনিয়াতেই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বক্ষব্যাধি ও শিশু বিশেষজ্ঞরা সরকারকে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে— অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং দেশের জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে। ঝাড়ফুঁক বা স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ খাইয়ে পরিস্থিতি জটিল করা যাবে না।

তারা বলেন, অসুস্থ শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব হয়। কিন্তু দেরিতে হাসপাতালে আনলে অনেক সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ আবিদ হোসেন মোল্লা, পেডিয়াট্রিক পালমনোলজিস্ট ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. রুহুল আমিন, চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. আনারুল আনাম কিবরিয়া, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেনু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসিফ মোস্তফা মাহমুদ এবং চেস্ট এন্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুত।

চিকিৎসকরা জানান, গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটায় চলতি বছরের মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত গত দুই মাসে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য রোগ হলেও আশার বিষয় হলো শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। সকলের সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।