নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরলেন তারেক রহমান

পাঁচ থেকে সাত বছর সময়সীমার সহায়তায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে—বললেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনাটি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। ২৫ তারিখে দেশে ফিরে আমি বলেছিলাম—মার্টিন লুথার কিং যেভাবে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’, আমিও বলেছিলাম ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। সেই প্ল্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে কেন্দ্র করে এই ফ্যামিলি কার্ড।”

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো আজীবন সুবিধা নয়। একজন গৃহিণী বা হাউসওয়াইফ এই কার্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাবেন—পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত।

তিনি বলেন, “এই সময়ে আমরা নারীদের সহায়তা দিতে চাই—তা হতে পারে আর্থিক সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে।”

কেন নারীর হাতে সহায়তা

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে—একজন নারী বা গৃহিণীর হাতে সহায়তা পৌঁছালে তিনি তা পরিবারের কল্যাণেই ব্যয় করেন।

তার মতে, পাঁচ থেকে সাত বছর সহায়তা পেলে একজন নারী মূলত তিনটি খাতে ব্যয় করেন—

  • পরিবারের স্বাস্থ্য
  • সন্তানের শিক্ষা
  • ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ছোট বিনিয়োগ

তিনি বলেন, “এই ছোট ছোট বিনিয়োগ থেকেই গ্রামের স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, উপজেলা শক্তিশালী হয়, জেলা শক্তিশালী হয়। ধাপে ধাপে পুরো দেশই উপকৃত হয়।”

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন

দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একসঙ্গে সবার জন্য এই সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “আমরা ধাপে ধাপে এগোব। যারা প্রান্তিক, যারা সুবিধাবঞ্চিত—তাদের দিয়ে শুরু করব।”

কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

ফ্যামিলি কার্ডটি ইউনিভার্সাল রাখা হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরি করার ফলে দুর্নীতি হয়েছে। সেই কারণেই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “একজন গ্রামের কৃষকের স্ত্রী যেমন এই কার্ড পাবেন, তেমনি ইমাম সাহেবের স্ত্রী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রীও পাবেন। এমনকি জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের স্ত্রীও এই কার্ডের আওতায় থাকবেন।”

তবে তিনি যোগ করেন, “আমাদের বিশ্বাস—যাদের এই সহায়তার প্রয়োজন নেই, তারা নিজেরাই এটি গ্রহণ করবেন না।”