স্টাফ রিপোর্টার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, দলীয়ভাবেও সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
পুরান ঢাকার স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস সংকট এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খোলা ড্রেনেজ থাকায় নর্দমার মতো পানি জমে থাকে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, দূষণ এবং তীব্র ট্রাফিক জ্যামসহ নানাবিধ সমস্যায় পুরান ঢাকা জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, তার মধ্যে স্থায়ীভাবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াও বিএনপির লক্ষ্য। একই সঙ্গে অতীতে সংঘটিত গণহত্যা, গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ সময় তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালানোর কথাও বলেন।
সাম্প্রতিক এক প্রার্থীর বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, “ঢাকার একটা সিট কাউকে দেবো না”—এ ধরনের মন্তব্য দুঃখজনক। তিনি বলেন, এসব কথা বলার কারণে সংশ্লিষ্টরা এখন হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হয়েছে এবং মূলত নিজেদের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্যই এমন বক্তব্য দিচ্ছে। তবে বিএনপি এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করবে না বলেও জানান তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই অবস্থানে এসেছে, “ভেসে আসিনি।” তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দলের অনেক ত্যাগ রয়েছে এবং বহু নেতাকর্মী গুম-খুনসহ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়ে দলটি দাঁড়িয়ে থেকেছে, কখনও পিছু হটেনি।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা ফুটপাত বা রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং সেখান থেকে চাঁদা তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দলের পক্ষ থেকে কোনো অবৈধ স্থাপনা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড অনুমোদন করা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি স্টেটমেন্টের আলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি আরও সতর্কভাবে হ্যান্ডলিং করা জরুরি এবং “একটি ঠিকানায় ২৫০টি পোস্টাল ব্যালট যাওয়াটা অশুভ সংকেত।” এ বিষয়ে সবার সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের জন্য আলাদা কেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে আলাদাভাবে গণনা হবে। সেখানে কোনো অনিয়ম হলে পোস্টাল ব্যালটকে চূড়ান্ত ফলাফলে আমলে না নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনে জয়ের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে না পারলেও অত্যন্ত আশাবাদী। তার আশা, ঢাকা-৬ এবং পুরান ঢাকার জনগণ ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিয়ে এই আসনটি বিপুল ভোটে বিএনপিকে উপহার দেবে।
কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, বিশেষ ব্যবস্থাপনা ও গণপরিবহনসহ নিরাপদ চলাচলের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন।





