ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান

সহিংসতা পরিহার করে ঐক্য, সংহতি ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে: সাইফুল হক

স্টাফ রিপোর্টার | ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার ও গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা চ্যালেঞ্জ, ৩১ দফা কর্মসূচি এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণসংক্রান্ত কিছু নতুন প্রস্তাব নিয়ে কথা হয়েছে।

সাইফুল হক জানান, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু চিন্তা ও প্রস্তাবনা রয়েছে, যা সময়মতো দেশবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “এই সময় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেটি যেন কোনোভাবেই সহিংস সংস্কৃতিতে রূপ না নেয়। আমরা যেন পুরো জাতিকে নতুন করে বিভাজনের দিকে ঠেলে না দিই।”

তার মতে, বিভাজন ও বিদ্বেষের রাজনীতি দেশের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই জনগণের মধ্যে নতুন করে ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।

আলোচনায় বর্তমান সময়ে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, মানুষের মধ্যে শান্তি ও আস্থার বার্তা পৌঁছে দিতে শান্তি সমাবেশ বা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা গুরুত্বসহকারে ভাবা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে একটি শান্তির আহ্বান জানানো হবে, যাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভরসা ফিরে আসে।

এ সময় সাইফুল হক দলের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক ও সম্মান জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অসাধারণ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও বহুত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্নে তার অবিচল অবস্থান—দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।

তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে—খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধারণ করে দেশকে ঐক্য ও সংহতির পথে এগিয়ে নেওয়ার।”

ঢাকা-১২ আসনের প্রসঙ্গে সাইফুল হক জানান, এই আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও দোয়া মাহফিলসহ দলীয় কর্মসূচি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ও জোটের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন করার বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে তারেক রহমান ঢাকা-১২সহ বিভিন্ন আসনে জনসংযোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে আশ্বাসও দিয়েছেন।

সাইফুল হক বলেন, পুরো আলোচনা অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই এই আলোচনার মূল বার্তা।