স্টাফ রিপোর্টার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় রেডিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নীলা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী মোঃ মিলন মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাব জানায়, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নীলাকে নিজ বাসায় গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যা সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন মল্লিক নীলার বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে নীলার বোন শোভার সঙ্গে একত্রে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর নীলার বোন পার্শ্ববর্তী একটি জিমে ১টা ৪২ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করেন। এই সময়ের মধ্যে মিলন মল্লিক পুনরায় দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করেন এবং ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, তিনি ভিক্টিমের পিতার হোটেলের কর্মচারী হিসেবে নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিতে নীলার বাসায় যেতেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি নীলাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও একই প্রস্তাব দিলে নীলা তা প্রত্যাখ্যান করেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নীলার বড় বোন জিমে যাওয়ার পর আসামি পূর্ব থেকে সংগ্রহ করা নাইলনের দড়ি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি নীলাকে পিছন থেকে নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। নীলার চিৎকারে আশপাশে লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা একটি বটি দিয়ে নীলার গলা কেটে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামি দ্রুত পালিয়ে যান এবং যাওয়ার আগে বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে নগদ অর্থ নিয়ে যান। ঘটনার দিন ব্যবহৃত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও নাইলনের দড়িও উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।





