মায়ের কবর জিয়ারতে এসে আবেগঘন বক্তব্য দিলেন এস এম জাহাঙ্গীর

রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, আবেগ থেকেই দোয়া করতে এসেছি—জনগণের শক্তিতেই ফ্যাসিবাদের পতন, মন্তব্য বিএনপি নেতার

স্টাফ রিপোর্টার | ১ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


একজন সন্তান হিসেবে মায়ের জন্য দোয়া করতেই আজ এখানে এসেছি—কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মিডিয়ার উদ্দেশ্যে নয়—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতা এস এম জাহাঙ্গীর।

কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এই স্থানে এসে আমার মনে হয়েছে, যেন আমার মায়ের কবরটাই পাশে রয়েছে। সেই আবেগ থেকেই দাঁড়িয়ে দোয়া করেছি।”

তিনি বলেন, বিএনপি যে রাজনীতি করে তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত।

এস এম জাহাঙ্গীর জানান, একজন কর্মী হিসেবে সারা দেশে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের অকৃত্রিম সম্মান ও ভালোবাসা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “এই সম্মানের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। দেশের জন্য কল্যাণকর যা কিছু হয়েছে, তার বড় অংশ জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সুবাদে তাঁর খুব কাছ থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। “আমি তাঁর স্নেহ, মমতা ও দেশপ্রেম খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি আমাদের কাছে একজন মায়ের মতো,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জানাজা ও দাফন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব ও বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে সে সময় উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। “আজ আমি এসেছি শুধুই আমার আবেগ থেকে—কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়,” যোগ করেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে এবং অমানবিক পরিবেশে বন্দি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় শক্তির চেয়েও বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।” গত ১৭ বছরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেভাবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই ফ্যাসিবাদের পতনের মূল কারণ।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ী হবে এবং বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রামকে শক্তিতে রূপান্তর করে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করবে।