যাত্রাবাড়ীতে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক কারবারি বাবুল আটক

ডিএনসির বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার; যশোর, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরে সরবরাহ নেটওয়ার্কের তথ্য মিলেছে

Posted by:

on


স্টাফ রিপোর্টার, ৯ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন ওরফে বাবু (৪৫)-কে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কেরাণীগঞ্জের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে যশোরে বসবাসরত বাবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়াবা পাচার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে যশোরগামী ‘লিটন ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে থাকা বাবুলকে আটক করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাবুল জানান, তিনি যশোর, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করতেন। এছাড়া ঢাকার কেরাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

ডিএনসি জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বাবুল প্রথমে টেকনাফ থেকে বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবা কেরাণীগঞ্জে নিয়ে আসতেন। পরে সেখান থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে যশোরে পাঠিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারি সরবরাহ করতেন। তিনি এর আগে আরও কয়েকটি বড় ইয়াবার চালান পাচার করেছেন বলেও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় আটক বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইয়াবাসহ সব ধরনের অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।