রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার দায়ে দম্পতির ফাঁসি; ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিবারকে ৭ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদায় করা অর্থ রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে রায় যখন বাস্তবে কার্যকর হবে, তখন আমি শতভাগ সন্তুষ্ট হব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ এ মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি চাই প্রত্যেকটি রামিসা হত্যার বিচার হোক। এই ধরনের নৃশংসতা যেন আর না হয়। যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর চাই।’

রায়ে বলা হয়, অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা রামিসার পরিবারকে দিতে হবে।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন রামিসার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। পরে ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।

একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিনে তা আমলে নেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।

পরবর্তীতে ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।