সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করতে হবে: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সঠিক তথ্যপ্রবাহ ও জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেছেন, সঠিক তথ্যপ্রবাহ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইএসপিআর পরিদপ্তরে পৌঁছালে পরিদপ্তরের পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে আইএসপিআর পরিচালক পরিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম, দায়িত্বপরিধি, গণমাধ্যম সমন্বয়, সংবাদ পরিবেশন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি বিদ্যমান সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।

এরপর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পরিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন এবং সংবাদ প্রস্তুত ও প্রচার প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যম সমন্বয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আইএসপিআর-এর কার্যক্রম আরও গতিশীল, গবেষণানির্ভর, সময়োপযোগী ও জনসম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শান্তিকালীন, দুর্যোগ ও সংকটকালীন পরিস্থিতিসহ জাতীয় প্রয়োজনের প্রতিটি মুহূর্তে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মানবিক ভূমিকা দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, সংরক্ষণশীল তথ্যপ্রবাহ, সীমিত প্রচার ও পর্যাপ্ত জনসম্পৃক্ততার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে জনগণের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পৌঁছায় না। এ প্রেক্ষাপটে আইএসপিআরকে জনগণের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, দুর্যোগে সহায়তা, জাতীয় উন্নয়নে অবদান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীলভাবে দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে হবে।

বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে আইএসপিআরকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে তিনি গবেষণা, তথ্য সংরক্ষণ, গণমাধ্যম সমন্বয়, ডিজিটাল যোগাযোগ, প্রকাশনা কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততামূলক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইএসপিআর-এর মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।