সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে টেকসই উদ্যোগের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে এই প্রবণতা বন্ধে সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মো. নুরুল হক।

তিনি বলেন, সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে। যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের মাধ্যমে সমুদ্রপথে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ : স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের সহ-অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড, সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের দেশব্যাপী অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিদেশফেরত ব্যক্তিরা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় বিদেশফেরতদের পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতাগুলো অনুপ্রেরণামূলক। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের কল্যাণে আরও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। তাই তাদের পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রে আরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বায়রার সদস্যপদে মানভিত্তিক গ্রেডিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের পরিচালক সাফি রহমান খান। অনুষ্ঠানে বিদেশফেরত অভিবাসী সেলিনা বেগম ও সোহেল রানা তাদের পুনরেকত্রীকরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশফেরতদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, অভিবাসী কর্মীরা বিদেশে যেতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। ফলে ঋণের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই বৈধ-অবৈধ পথের বিষয়টি বিবেচনা করেন না। দেশে ফেরার পর তাদের জন্য মনোসামাজিক ও জীবিকা সহায়তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইইউ কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে নতুন সমাধান ও বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক লোকমান হোসেনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।