১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ, না মানলে লাইসেন্স বাতিল

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান রোধে কঠোর অবস্থান; স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের ঘোষণা


স্টাফ রিপোর্টার | ৬ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এক শ্রেণির প্রতিষ্ঠান অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করছে, যার নেতিবাচক প্রভাব মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় পড়ছে।

তিনি বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিত। কিন্তু বর্তমানে কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনে উদ্বুদ্ধ করছে। এ প্রবণতা বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হবে।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের ঝুঁকি আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজারই নারী এবং তাঁদের অধিকাংশ মিডওয়াইফারি কর্মী হিসেবে নিয়োগ পাবেন।