প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত জুলাই শহীদদের স্বজনেরা

বিচার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি; শহীদ পরিবারকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার | ০৪ জুলাই ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তাদের দীর্ঘদিনের বেদনা, বিচার প্রত্যাশা এবং পুনর্বাসনের দাবি তুলে ধরেছেন। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা বক্তব্য দেন। তারা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

বক্তব্যে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া, শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন, শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা এবং শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসানসহ অনেকেই তাদের সন্তান হারানোর বেদনা তুলে ধরে দ্রুত বিচার ও সরকারি সহায়তার আহ্বান জানান।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে শাহীন মালু, মিল্লাত হোসেন, সুজন মোল্লা, আলামিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান। তারা বলেন, আন্দোলনে গুরুতর আহত হওয়ার পরও অনেকেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সহায়তা পাননি।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী ওই অভ্যুত্থানে ৮৩৪ জন শহীদ হন, যদিও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এর বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।