১৫ বছর পর সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ এসেছে: মির্জা ফখরুল

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ভোটের আশা, কৃষক ও যুবকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন আগের রাতেই শেষ হয়ে গেছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনও সঠিকভাবে হয়নি।

তিনি বলেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর এখন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ সবাই একটি নিরপেক্ষ ভোট চায়। তাই এবারের নির্বাচনে কারচুপি বা জবরদস্তির আশঙ্কা কম বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে, সেটাই হওয়া উচিত। প্রত্যেকে যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারে এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচন করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি ভালো সরকার গঠন করতে পারলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা পান এবং ফসল ঘরে তোলার পর ন্যায্য দাম পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি কৃষকদের ব্যর্থতা নয়, বরং সরকারের কৃষি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঘাটপাড়া ব্রিজ ও সংশ্লিষ্ট সড়ক ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। ছড়াবাড়িকে আলাদা ইউনিয়ন করার দাবি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি সরকারি প্রক্রিয়ার বিষয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এছাড়া এলএসডি গুদাম নির্মাণ, শ্মশান ও কালী মন্দির উন্নয়ন এবং চৌরঙ্গী নদীর ভাঙনরোধের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থান জানান।

সবশেষে তিনি বলেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই হবে অগ্রাধিকার।