‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার’: বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

নারীর অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রাখা নারীদের সম্মাননা প্রদান ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

স্টাফ রিপোর্টার, ০৪ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। এর মধ্যে সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকেও দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।’ তিনি নারী-পুরুষের সমতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস সারা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।

১৯১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিনটি নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও স্বাধীনতা অর্জনের আগ থেকেই দিবসটি পালন করা শুরু হয়েছিল। প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় এবং নারী অধিকার, সমতা ও ক্ষমতায়নের বার্তা সামনে আনা হয়।