নারী প্রধান পরিবারে ভাতা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন

দেশের ১৪ স্থানে পাইলট কর্মসূচি, প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী পাচ্ছেন মাসে আড়াই হাজার টাকা


স্টাফ রিপোর্টার, ১০ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারী প্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) ল্যাপটপে বাটন প্রেস করে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশে সুবিধাভোগী নারীদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পৌঁছে যায়।

পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৭ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সাততলা বস্তিতে বসবাসকারী সুবিধাভোগী রিনা বেগম কার্ড হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাবো। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নির্বাচনী ইশতেহারে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় এই কর্মসূচি শুরু করা হলো।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী এই কার্ড পেয়েছেন।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বনানী টিএন্ডটি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে কড়াইল ও আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। বিশেষ করে সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল হওয়ার আগেই শত শত নারী উদ্বোধনী স্থানে জড়ো হন এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা ইউসুফ আল মাদানী। এরপর পরিবেশিত হয় বিএনপির দলীয় সংগীত। পরে ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মঙ্গলবার থেকে যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো—রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা। এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনে তথ্য যাচাই করে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যারভিত্তিক প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এই ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।

এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নির্বাচিত নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এ সময় তারা অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।