গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যাহত করতে অপচেষ্টা রুখতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান


স্টাফ রিপোর্টার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলসী খালের পাড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের প্রশ্রয় না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে এবং জুলাই সনদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা সফল না হলে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি—যেমন নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখনন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও বৃক্ষরোপণ—বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।

দেশের অগ্রগতি রক্ষায় জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে তারা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেয় না। ভবিষ্যতেও কেউ জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলতে চাইলে তারা যথাযথ জবাব দেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়ন সম্ভব। তিনি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “তারা যদি পারে, আমরা কেন পারবো না—আমরাও পারবো।”

খাল পুনঃখননের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ উলসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন করা হলে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, বাড়বে খাদ্য উৎপাদন, উপকৃত হবে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ। এছাড়া খালের দুই পাশে প্রায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, খালে পানি ফিরলে হাঁস পালনসহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে নারীদের জন্য আয় বৃদ্ধির পথ খুলবে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া-এর উদ্যোগে যে শিক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, তা আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই উলসী খাল খননের সূচনা করেছিলেন, যা ‘জিয়ার খাল’ নামে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে।