৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছে সরকার, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে সরবরাহ

ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের টিকা সংগ্রহে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ; দেশে আগামী ৮-১২ মাস ভ্যাকসিন সংকট হবে না বলে জানিয়েছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

দেশে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই ইউনিসেফকে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে। সংগৃহীত ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে থাকবে এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও (ওপিভি), পেন্টা ও আইপিভিসহ ১০ ধরনের জীবনরক্ষাকারী টিকা।

ভ্যাকসিন সরবরাহের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি মে মাসেই কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছেছে। গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি, ৬ মে আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং ৯ লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন দেশে এসেছে। ১০ মে পর্যন্ত মোট প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরকারের হাতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি হবে না।

ভ্যাকসিনের গুণগত মান নিশ্চিতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা কার্যকর রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ইউনিসেফ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

হামের টিকাদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। এরপরও কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে তাদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিকাদান ও ইমিউনিটি গড়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিশু মৃত্যু রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের অন্যান্য কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)’ প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৮ মে থেকে ইআরএল পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া, মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ১২টি সেতুর টোল প্লাজায় ২০ মে’র মধ্যে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য পিওএস মেশিন বসানো হবে।

নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০ থেকে ১৬ মে ‘নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সদরঘাটে লঞ্চে সরাসরি নৌকা থেকে যাত্রী ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে বসিলা ও শিমুলিয়া থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।