জাতি গঠনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান তারেক রহমানের

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতি গঠন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন, যাতে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থা, দুর্নীতি, ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেগুলোর উত্তর দেন।

চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী কাবেরী আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল খাতের বিকাশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া কোনো কিছুই টেকসইভাবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “রাজনীতিকে রাজপথ থেকে সংসদমুখী করতে হবে। শুধু আন্দোলন বা হইচই করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আলোচনা, চিন্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাতে স্কুল শিক্ষার্থীদের সংসদ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, কর্মসংস্থান, প্রশ্নফাঁস, স্বজনপ্রীতি ও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রতিবছর যদি বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়, তাহলে সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব হয় না।” একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেধা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন সম্ভব।

বাংলা ভাষা ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাতৃভাষার প্রতি অনীহা মূলত পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতার কারণে তৈরি হয়। পরিবার থেকেই বাংলা ভাষার চর্চা বাড়াতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।