স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ইরান ইস্যু, বাণিজ্য ও তাইওয়ান পরিস্থিতির মতো জটিল সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে Donald Trump ও Xi Jinping বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের দুই পরাশক্তির শীর্ষ এই সম্মেলন শুরু হয়।
সকাল ১০টার কিছু সময় পর বেইজিংয়ের Great Hall of the People-এ করমর্দনের মাধ্যমে ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সি চিনপিং। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে গভীর উত্তেজনার আবহ থাকলেও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানটি ছিল বেশ আড়ম্বরপূর্ণ।
এ সময় সি চিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে সফররত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। উল্লেখ্য, রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংয়ের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দুই নেতা হলের কেন্দ্রে অবস্থানকালে চীনা সামরিক ব্যান্ড প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংল্ড ব্যানার’ এবং পরে চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। এ সময় তোপধ্বনিও দেওয়া হয়। এরপর দুই দেশের পতাকা হাতে রঙিন পোশাক পরা একদল শিশু নেচে-গেয়ে ‘স্বাগতম’ জানায় দুই নেতাকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক Temple of Heaven পরিদর্শন করবেন। ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে একসময় চীনের সম্রাটরা ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করতেন।
দুই দিনের এই সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার রাতে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে বেইজিং পৌঁছান ট্রাম্প। তার প্রতিনিধি দলে রয়েছেন Jensen Huang এবং Elon Musk-এর মতো শীর্ষ ব্যবসায়ী। তাদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০১৭ সালের পর প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফর করছেন। সেবার ট্রাম্পের সঙ্গে স্ত্রী Melania Trump থাকলেও এবার তিনি একাই এসেছেন।
ট্রাম্পের এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য কৃষি ও উড়োজাহাজ খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি করা। বেইজিং আসার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, চীনের বাজার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য আরও উন্মুক্ত করতে সি চিনপিংকে অনুরোধ জানাবেন।
তবে নয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মার্চে নির্ধারিত সফরটিও এই যুদ্ধের কারণে স্থগিত হয়েছিল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা চীন।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রসঙ্গে সি চিনপিংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, ‘ইরান ইস্যুতে বেইজিংয়ের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই আমাদের।’
অন্যদিকে মার্কো রুবিও ভিন্ন সুরে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে ইরানের কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত রাখতে চীন যাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়, সে বিষয়ে বেইজিংকে রাজি করানোর চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।
দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধও এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের জবাবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। ফলে দুই দেশের মধ্যে শুল্কের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর এক বছরের জন্য শুল্ক বৃদ্ধিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আজ আলোচনা হতে পারে।
তাইওয়ান ইস্যুতেও ট্রাম্প নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সোমবার তিনি জানান, স্বশাসিত এই ভূখণ্ডে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি সি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার নীতি অনুসরণ না করলেও ট্রাম্পের এই অবস্থান তাইপেই ও আঞ্চলিক মিত্রদের নজর কাড়ছে।
এছাড়া বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
উভয় পক্ষই এই সম্মেলন থেকে নিজেদের পক্ষে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করারও প্রয়াস চলছে। ট্রাম্প আশা করছেন, তিনি সি চিনপিংকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রাজি করাতে পারবেন, যা দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হবে।





