স্টাফ রিপোর্টার | ২ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১ ভোট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
সরকারের মতে, এ সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্ব, দেশের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতির পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর মাত্র তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচারণা চালাতে হয়েছে, যা সাধারণত কয়েক বছরের প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হয়।
এদিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালেই তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। ফলে সময়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলো সমর্থন আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
বিজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ড. খলিলুর রহমানের ইন্টারঅ্যাকটিভ ডায়ালগ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি আনালেনা বায়েরবক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সংলাপে তিনি তার ভিশন, অগ্রাধিকার এবং কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত এই সংলাপের পর প্রায় ৩০টি দেশ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানায়।
বাংলাদেশের প্রচারণায় কার্যকর বহুপাক্ষিকতা, জাতিসংঘ সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সরকার এ ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।





