বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি ১৪০টির বেশি দেশে, ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়লে প্রসার হবে আরও: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্যালাইন মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিতের আশ্বাস, আদ-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজের জবাব দিতে আরও দুই দিন সময়

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত বিশ্ববাজারে ক্রমশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা গেলে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এমনকি ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো জরুরি চিকিৎসা উপকরণেরও ঘাটতি ছিল। তবে পরবর্তীতে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন অনুদান হিসেবে দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্টোরে আরও এক লাখ ইউনিট স্যালাইন মজুত রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজন বাড়লে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, আদ-দ্বীন হাসপাতাল-এ শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব জমা দেওয়ার জন্য আরও দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্তের হার কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।