সকল ৩১ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকারের নতুন উদ্যোগ, তৈরি হবে দেশীয় প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্স

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সকল ৩১ ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে মাত্র ৮টি উপজেলায় ১০০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের বাকি সব ৩১ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কারিগরি সহায়তায় এসব অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হবে। গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা। গত ৭ জুন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত চিকিৎসকদের নিয়ে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি সাতটি বিভাগ ও সব জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।

তিনি জানান, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নের সমীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি এলপিজির দাম কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। লাইফ লাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যহার স্থগিত রেখে আগের দাম বহাল রাখা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলে ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সারাদেশে ১ হাজার ১০০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এবারের ঈদুল আজহার শতভাগ চাহিদা পূরণ হয়েছে।