স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের বৈঠক, নিরাপত্তা সংস্কার ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধে গুরুত্বারোপ

মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও অভিবাসন সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

ইইউর আন্তর্জাতিক বিষয়ক, রিটার্ন ও ভিসা সংক্রান্ত পরিচালক এবং ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মহাপরিচালক হেনরিক নিলসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার। তিনি আগামী দিনে ইইউর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হেনরিক নিলসেন মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল। তবে গত চার মাসে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানের মানবাধিকার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি ডায়ালগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সব ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ২০১৭ সালের ইইউ-বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) আওতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং মানব পাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।

বৈঠকে ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইইউর নতুন ‘অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর’ নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

ইইউ পরিচালক হেনরিক নিলসেন নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার কার্যক্রমে ইইউর সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

এ সময় আগামী অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার ম্যাগনাস ওসওয়াল্ড ব্রুনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ সফরকে স্বাগত জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ও মাইগ্রেশন সেক্টরের প্রধান আলেকজান্দ্রা ডোমানস্কাসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।