চীন সফরে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৫-১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা, তিস্তা প্রকল্পেও আলোচনা

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্ব; শি জিনপিং ও লি চিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর উপলক্ষে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হওয়ার কথা রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্প বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সফরকালে এ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ার ইব্রাহিম-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুর-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। পরে সোমবার বিকেলে লি চিয়াং-এর আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন।

সিয়াম বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। দুই সফরেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা এটিকে যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।”

পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান-এ ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য নিউ চ্যাম্পিয়নস বার্ষিক সম্মেলন-এ অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিম-সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।